জেনে নিন এখন ত্বকের যত্নে

রোজার সময় সারা দিন পানি খাওয়া হয় না, ইফতারে একটু বেশি ভাজাপোড়া খাওয়া হয়েই যায় হয়তো। আবার শেষ রাতের খাবার খেতে অবহেলা করেন কেউ কেউ, যা একেবারেই উচিত নয়। সব মিলিয়ে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থেকে বঞ্চিত হতে পারেন; আবার অতিরিক্ত তেলচর্বি–জাতীয় খাবারের প্রভাবও পড়ে শরীরে। ত্বকেও ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। সুস্থতার প্রতি খেয়াল রেখে রমজানের খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুললে সৌন্দর্য থাকবে অটুট। ঈদের প্রস্তুতিও হবে ঠিকঠাক। সুস্থ ও সুন্দর ত্বক ঈদের খুশিতে সাজাতে পারবেন মনের মতো করে। রেড বিউটি সেলুনের স্বত্বাধিকারী ও রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন জানালেন এমনটাই। পানিশূন্যতার প্রভাবে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে ও ত্বকে কালচে ছোপ দেখা দেয়। তাই সন্ধ্যা, রাত এবং শেষ রাতে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। ছোট মাছ, ফলমূল, সবজি, ডাল ও দুধ ত্বকের জন্য ভালো। ভাজাপোড়া ও ভারী খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।

শুষ্কতা এড়াতে

যাঁদের ত্বক তৈলাক্ত ধরনের, তাঁরা শুষ্কতার সমস্যায় একটু কমই পড়েন। তবে অন্যদের শুষ্কতাজনিত সমস্যায় পড়তে হতে পারে। এমন সমস্যা এড়াতে সারা দিনে অন্তত তিন বার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। মুখ ধোয়ার পর না মুছে ভেজা অবস্থায় রাখতে পারেন। স্বাভাবিকভাবে ধীরে ধীরে পানি শুকিয়ে আসবে। ভেজা ভাব থাকতেই হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। তবে অতিরিক্ত রাসায়নিকসমৃদ্ধ প্রসাধনসামগ্রী এড়িয়ে চলুন।

বাড়তি যত্নে

মুখে শুধু কলা দিয়ে মালিশ করতে পারেন। পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন মালিশ শেষে।

একটি পাত্রে মধু নিয়ে আঙুলের ডগার সাহায্যে মুখের ত্বকে মালিশ করতে পারেন।

মধুর সঙ্গে অ্যালোভেরা মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। তবে মধুতে অ্যালার্জি থাকলে কোনোভাবেই ত্বকে মধু লাগানো যাবে না।

বেসন ও টকদইয়ের সঙ্গে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করতে পারেন।

খেয়াল রাখুন, কোনো প্যাক ত্বকে ২০ মিনিটের বেশি সময় রাখবেন না। প্যাক লাগানোর পর শুকিয়ে আসতে থাকলে শুকনা অংশগুলো ঘষে সরিয়ে ফেলা ঠিক নয়। এতে ত্বকে ভাঁজ পড়ে যেতে পারে। বরং প্যাক শুকিয়ে এলে হাত বা ভেজা তোয়ালের সাহায্যে তা ভালোভাবে ভিজিয়ে নিয়ে পুরো প্যাকটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনুন। এরপর পানি দিয়ে ভালোভাবে ঘষে তুলে ফেলুন।

ঈদ আসছে, প্রস্তুতি চাই সেভাবেই

সপ্তাহে এক দিন বিউটি পারলার বা সেলুনে সেবা নিতে পারেন। ডিপ ক্লিনিং করানো হলে তা ত্বক পরিষ্কারের পাশাপাশি গভীর থেকে আর্দ্র করতেও সাহায্য করে। ঈদের তিন-চার দিন আগে ভ্রু প্লাক করাতে পারেন। কারণ, অনেকের র‌্যাশ বা দাগ হতে দেখা যায়। তাই এক-দুদিন আগে ভ্রু প্লাক করালে একটু সমস্যায় পড়তে পারেন।

Related posts

Leave a Comment